Tuesday, March 6, 2012

নাস্তিকরা ধর্মের শত্রু, ধার্মিকের শত্রু নয়।

একজন নাস্তিক হিসাবে আমার ধারণা হচ্ছে যে মানুষটি ধর্ম পালন করেন এই ভেবে যে, 'এটি সকলের মঙ্গলের জন্য ঈশ্বরের দ্বারা প্রচারিত' সেই আস্তিক আমার শত্রু নয়। শত্রু হল তারা যারা একজন সাধারণ মানুষের মনে 'চোখ বুজে বিশ্বাস করার অভ্যাস' ঢুকিয়ে দেয়। উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি কোনো অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত যখন রোগের চিকিৎসা করাতে না গিয়ে আল্লার কাছে মাথা ঠোকে কিম্বা জ্বীন ছাড়ানোর জন্য পীরের কাছে দৌড়ায়, তাবিজ কবজ কেনে, সে কখনো নাস্তিকের শত্রু নয়। শত্রু হল তার ভুল বিশ্বাস, যা তাকে সঠিক পথ চিনতে বাধা দেয়। (এখানে কেউ যদি আল্লা আছেন বলে মেনেও নিয়ে থাকেন তাঁরা কি বলতে পারেন যে চিকিৎসা করায় ডাক্তারের চেয়ে আল্লা বেশি ওস্তাদ কিনা?) সেই সরল মানুষেরা একজন হাড়-হারামজাদাকে চোখ বুজে অনুসরণ করে কেবল এই ভেবে যে এনার মতন টুপি দাড়ি নামাজী কখনো খারাপ হতে পারে না। একজন উর্দু কি আরবি কপচানো চোট্টার কথায় বোকা বাঙ্গালীর ঘরে আগুন দেয়। কোনো নেতার যোগ্যতা নিয়ে না ভেবে তার টুপি কিম্বা দাড়ি দেখে তাকে ভোট দেয়। সেই সুযোগ নিয়ে আমাদের হাড়-হারামজাদারা কেবল মানুষের পকেট খালি করেই ছাড়ছে না, নেতা মন্ত্রী হবার পর্‍যন্ত স্বপ্ন দেখছে। এই অবস্থা পালটানো যেতে পারে কেবল 'চোখ বুজে বিশ্বাস' করা বন্ধ করে, প্রশ্ন করে, বিচার করে, ভুল সংশোধন করে। ধর্ম মানুষের এই বিচার করার স্বাভাবিক ক্ষমতাটাকেই নষ্ট করে দেয়। সেই কারণেই ধর্ম এবং তার ধ্বজাধারীরা যুক্তিবাদীর শত্রু। ধর্মকে তারা মানুষের বারোটা বাজানোর কাজে ব্যবহার করে, কিন্তু চোখ বুজে বিশ্বাস করার মহান আদর্শে শিক্ষিত জনতা তাদের পিছনে ভেড়ার পালের মতন ঘোরে। জনগনের কয়েক কোটি টাকা হজম করার পরে তারা কয়েক লাখ টাকা দিয়ে মসজিদ বানিয়ে দেয়। সেখানে পাব্লিক আল্লার কাছে নিজেদের উন্নতির জন্য দোয়া করে। চালের দাম কমানোর দোয়া করে। বাড়ির মেয়েটা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসে সেজন্য দোয়া করে।

একবার ভাবুন তো, কেবল রাজধানী শহরে জুম্মার নামাজে কত লোক জড় হয়? এই লোকগুলা যদি সপ্তাহে একটা দিন সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে দাবী করে (দোয়া নয়) যে জিনিষের দাম কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে, মানুষের উন্নতির জন্য কাজ করতে হবে, পুলিশের কাজ ঠিকমতো করতে হবে, সমস্ত ঝুলে থাকা মামলার বিচার করতে হবে। সরকারের ক্ষমতা আছে সেই দাবী না মেনে বসে থাকার? কোনো দলের কোনো নেতার সাহস হবে সেই দাবীর বিরুদ্ধে কথা বলার? আমরা সবকিছু বদলে দিতে পারি, কিন্তু নিজেদের হাত লাগাতে হবে। পাকিস্তানকে গদাম সহ খেদানোর কাজটাও মানুষেই করেছিল। ঈশ্বরের ভরসায় থাকলে কিছুই হতনা।

কোনো নাস্তিক যদি বিশ্বাসীকে গালাগালি দিয়ে কিম্বা ধোলাই দিয়ে তার বিশ্বাস দূর করতে চায় তাহলে সে নাস্তিক হবার যোগ্য নয়। ধর্মগুলো বলে একজন অবিশ্বাসীকে নরকের আগুনে পোড়ানো হবে, সেই ধর্মের মতই নাস্তিকও যদি ভয় দেখিয়ে কাজ হাসিল করতে চায় তাহলে আর তার যুক্তিপ্রমাণ নিয়ে কাজ কি? ধোলাই দেওয়া দরকার সেইসব লোকেদের যারা মানুষের এই সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তাদের মাথায় চড়ে বসে বা বসার চেষ্টা করে। সেই স্বার্থে চোখ বুজে বিশ্বাস করার মহত্ব প্রচার করে। এবং প্রশ্ন তুললেই ধর্ম গেল রে বলে লোক ক্ষ্যাপায়।

ঈশ্বর আছেন কি নাই সে ক্যাচাল পরে করলেও চলবে, কিন্তু এইসব হাড়-হারামজাদা ভন্ড-ধার্মিকেরা আছে এটা বাস্তব সত্যি। এরা যে মানুষের বারোটা বাজানোর জন্যই ধার্মিক সেটাও বাস্তব সত্যি। আগে এদের খেদানো দরকার।

No comments:

Post a Comment